অনলাইনে বড় কোম্পানির রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক চায় আইএমএফ

২০ মার্চ, ২০২৪ ১৫:৫৬  

রাজস্ব আদায় বাড়াতে চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকেই বৃহৎ কোম্পানিগুলোর আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়ার বিধান চালু করার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে করছাড় দেওয়ার যেসব বিধান রয়েছে, সেগুলো বাতিলের পাশাপাশি বিদ্যমান কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে করছাড় কমানোর ব্যাপারে এনবিআরকে কঠোর হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলেছে, চলতি বছরের জুন মাসের পরে দেশের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এছাড়া যেসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের প্রণোদনা পায়, তাদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা উচিত। তা না মানলে তাদের প্রণোদনা যেন বন্ধ করা হয়।

এছাড়া করপোরেট অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানেও প্রস্তুত জানিয়ে এজন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, কম্পিউটার আছে তাদের। পাশাপাশি করপোরেট আয়করের জন্য অবচয় ভাতার হার ও ভাতা মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, ব্যবসায়ের লোকসান ১০ বছর পর্যন্ত চলতে দেওয়া যেতে পারে।

একইভাবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ও বিভিন্ন ধরনের বন্ডে সরকারের দেওয়া কর সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত আয়ের ওপর দেওয়া করছাড়ও বাতিলের পক্ষে আইএমএফ। ব্যক্তিখাতে বিদ্যমান করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যূনতম করহার ৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যক্তিখাতের আয়কর কাঠামো পুনর্গঠনের পরামর্শ দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ভাতার বিপরীতে কর অব্যাহতির সুযোগ বাতিল,  পেনশন ও গ্রাচুইটি থেকে কর অব্যাহতি না রাখা এবং বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতায় (যা মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ) কর অব্যাহতি তুলে নিতে বলেছে আইএমএফ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুলসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করে এনবিআরকে এই সুপারিশ মালা দিয়েছে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল। আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডেভিড বার, আরবিন্দ মোদি ও ডেভিড ওয়েন্টওয়ার্থ নামের তিন কর্মকর্তা। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও আয়কর বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করার পর এই প্রেসক্রিপশন দিলো আইএমএফ।